ব্লেড দিয়ে কেটে যৌনাঙ্গের প্রবেশ পথ বড় করেই রাতভর ধর্ষন করেছে দিনাজপুরের সাত বছরের শিশু পূজাকে। সারারাত ধরে দু-জন জানোয়ার টানা ধর্ষন করে সকালে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে গিয়েছিলো তাকে। বিচার হয়নি, বাকিটা ইতিহাস......
আচ্ছা ছোট্ট পূজার কি দোষ ছিলো? একটি ছোট শিশুকে তুলে নিয়ে গেল, ধর্ষন করলো। বাবা বিচার চাইতে গেল থানায়, দশ হাজার টাকায় পুলিশ কিনতে চাইলো পূজার হারানো ইজ্জত!
আমি মনে করি পূজার বাবা তার মেয়েকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে ভালোই করেছে। কারন যেই পুলিশের কাছে সে বিচার চাইতে গেছে সে পুলিশ-ই তার দু-দিন আগে এক মেয়েকে রাতভর ধর্ষন করেছে। এটা দেখলে পূজার বাবা হয়তো দু-বার আত্মহত্যা করতো।
পূজার বাবা থানা থেকে গিয়েছিলো ক্ষমতাসীল দলের অফিসে বিচার চাইতে। কিন্তু সে হয়তো জানতো না, তার ঠিক এক সপ্তাহ আগেই এই ক্ষমতাশীল দলের-ই এক মেম্বার ধর্ষন করেছে পূজার বয়সী আরেকটা বাচ্চাকে মেয়ে কে।
মুর্শিদাবাদ জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় এখনো প্রচন্ড যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। এটা জানতে পারলে হয়তো পূজাদের বাবারা আরো একবার সুইসাইড করতো অতি দুঃখে।
গত পরশু দিনের কাহিনী তো বলাই হয়নি আপনাদের!রাজধানীর বুকে দশ বছরের একটি মেয়েকে স্কুল কক্ষে আটকে রেখে আট জন মিলে রাতভর ধর্ষন করেছে।
মেয়েটির আত্মচিৎকার চার দেওয়ালের বাইরে আসেনি ভালোই হয়েছে। বাইরে এলে রাষ্ট্র হয়তো তার সেই চিৎকার শুনে হাত তালি-ই দিতো।
কিছুদিন আগে একটা বাড়িতে মা-মেয়েকে একা পেয়ে কিছু জানোয়ার বাড়িতে ঢুকে মা'কে বেঁধে রেখে সাত বছরের ছোট্ট মেয়েটিকে ধর্ষন করেছিলো।
তখন সেই নিরুপায় মা বারবার চিৎকার করে বলেছিলো, 'বাবারা, ও ছোট, একজন একজন করে যাও' একজন একজন করে যাও। কেউই শোনেনি মায়ের আর্তনাদ। কেউ না। কেউ না। বিচারও হয়নি....। হয়েছে ইতিহাস...।
কিন্তু এভাবে আর কতো?
আর কতো পূজারা ইতিহাস হবে?
আশি বছরের বৃদ্ধাও যখন একটি রাষ্ট্রে ধর্ষনের শিকার হয়, তখন এই লজ্জা কোথায় রাখি..!!
নরম গদির মানুষেরা মানবতাবাদী প্রগতিশীল, সভ্য মানুষ তাই তারা এসব আধুনিক সমাজের সামান্য দুষ্টুমি বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
সুশীলেরাও আজ চুপ, চেতনাধারী অচেতনরা আজ অন্ধ, মানবতাবাদী মুক্তমনারা আজ বোবা।
সমাজ ধংস হোক। নারী লাঞ্চিত হোক। শিশু ধর্ষিত হোক। রেল লাইনে কাটা পড়ে মরুক। তাতেও তথাকথিত সুশীল চেতনাধারী মানবতাবাদীদের যেন কিছুই যায় আসে না!
আর আমরা ফেসবুকে প্রোফাইলে দু-দিন কালো ছবি ঝুলিয়ে কিংবা 'Justice for অমুক, তমুক' লিখে পোস্ট করি.....ব্যাস, তারপর সব ভুলে যাই..!
কিন্তু এভাবে আর কতো..??
পূজার বাবা তো পূজাকে নিয়ে মরে গিয়ে বাঁচলো, আমরা বেঁচে আছি কেন? মানুষ বেঁচে আছে কেন?
এভাবে বেঁচে থাকাকে কি বেঁচে থাকা বলে? মানুষ কি এভাবে বেঁচে থাকে? একের পর এক আমাদেরই নাকের ডগার ওপর দিয়ে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে শত শত ছোট্ট পূজারা।
তার পরও আমরা মরি না কেন? আমাদেরও মরে যাওয়াই উচিৎ! এসব প্রতিরোধ/প্রতিকার করতে না পারলে আমাদের মরে যাওয়াই উচিৎ! বেঁচে থাকার অন্তত কোনো অধিকার আমাদের নেই। প্রতিটা দিন, প্রতিটা ক্ষেত্রে হতাশার সংবাদ! বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখন স্বাভাবিক শব্দটির থেকেও বেশি অস্বাভাবিক হয়ে গেছে৷ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা একটা মেরুদন্ডহীন জাতিতে আমরা দিন দিন অভূতপূর্ব সাফল্য দেখাচ্ছি।
আর পূজারা কচি বয়সে ধর্ষিতা হয়ে ঝরে যায়। পূজার বাবারা ন্যায় বিচারের অভাবে প্রাণ দেয় রেল লাইনে। বিচারের বাণী এদেশে যেন নিভৃতে কাঁদে।😡😤😭
Written by
Taufik RD